অথবা, আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তায় জন লকের স্থান সংক্ষেপে নির্ণয় কর।
অথবা, আধুনিক রাষ্ট্রভিায় জন লক কী অবদান রেখেছেন? সংক্ষেপে লিখ।
অথবা, আধুনিক রাষ্ট্রচিতায় জন লকের অবস্থান সম্পর্কে যা জান লিখ।
উত্তরঃ ভূমিকা: জন লক ছিলেন সপ্তদশ শতকের যুক্তিবাদী দার্শনিকদের অন্যতম। সামাজিক চুক্তি, প্রাকৃতিক আইন, প্রাকৃতিক অধিকার এবং জনগণ কর্তৃক বিপ্লব সংগঠিতকরণের অধিকারের উপর ভিত্তি করে তিনি যে রাষ্ট্রচিন্তা গড়ে তোলেন, তা রাষ্ট্রদর্শনের ইতিহাসে উদ্ভাবিত হলেও তাঁর তত্ত্ব প্রাকৃতিক অধিকার। সরকারের উপর জনসাধারণের নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার বক্তব্যকে সুষ্ঠুরূপে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছে। লকের বক্তব্য হবসের ন্যায় যুক্তিতে পরিপূর্ণ না হলেও সমকালীন সকল রাজনৈতিক সমস্যার পর্যালোচনা এতে স্থান পেয়েছে এবং সেসব সমস্যার সমাধানে তিনি ব্যক্তির স্বাধীনতা, স্বাতন্ত্র্যবোধ এবং গণতন্ত্রের ন্যায় আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মৌল অনুভূতিসমূহের আলোকে দার্শনিক সমাধান দিতে চেষ্টা করেছেন।
আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তায় জন লকের অবস্থান: জন লকের তত্ত্বের কিছু সমালোচনা থাকলেও তাঁর উপর্যুক্ত অবদানসমূহ পর্যালোচনা করে একথা বলা যায় যে, আধুনিক রাষ্ট্রদর্শনে জন লকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, যা তাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। তাঁর দর্শন পরবর্তী যুগের বহু বিখ্যাত দার্শনিক ও রাজনৈতিক ঘটনাকে বিপুলভাবে প্রভাবিত করেছে। ব্রিটেনের সংসদীয় গণতন্ত্র মূলত লকের ভাবাদর্শেই প্রতিষ্ঠিত। ফরাসি বিপ্লব, আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলন, আইরিশ স্বাধীনতা আন্দোলন ইত্যাদিতে লকের চিন্তধারা যথেষ্ট কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর রাষ্ট্রচিন্তা সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে অধ্যাপক গেটেল (R. G. Gettell) বলেছেন, উইলিয়াম মলিনস্ক আয়ারল্যান্ডের জন্য যে স্বাধীনতা দাবি করেন, তার মধ্যে তিনি জন লকের ভাবধারাকে সন্নিবেশিত করেছেন। ফরাসি চিন্তাবিদগণ ও ডাচগণ তাঁর অনেক মতবাদ গ্রহণ করেন। এককথায়, সপ্তদশ শতকের রাজনৈতিক বিপ্লবগুলোর মধ্যে স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ ও গণতন্ত্রের যেসব আধুনিক প্রত্যয় তা অভিব্যক্তি লাভ করে অষ্টাদশ শতাব্দীতে বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লবসমূহের – চূড়ান্ত পরিণতিতে, যা ছিল জন লকের রাষ্ট্রচিন্তার প্রতিফলন।
উপসংহার: উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, রাষ্ট্রচিন্তার ক্ষেত্রে জন লকের অবদানকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। তিনি ছিলেন মূলত আধুনিক গণতান্ত্রিক মতবাদের প্রবক্তা। তিনি গণতন্ত্র সম্পর্কে যে মতবাদ ব্যক্ত করেছেন তা যে কোন ব্যক্তির জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের। আর এ জন্যই তাকে আধুনিক গণতন্ত্রের জনক বলা হয়।