অথবা, সরকারের আধুনিক শ্রেণিবিভক্তি উল্লেখ কর।
অথবা, সরকারের আধুনিক শ্রেণিকরণ উল্লেখ কর।
উত্তরঃ ভূমিকা: আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানিগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারের শ্রেণীবিভাগ করেছেন। জন বডিন, জন লক, রুশো, মন্টেস্কু, মেরিয়ট ও লীকক সরকারের আধুনিক শ্রেণীবিভাগের বিভিন্ন নীতি অনুসরণ করেছেন। তবে এদের মধ্যে লীককের শ্রেণীবিভাগ অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও বিজ্ঞানসম্মত বলে প্রমাণিত হয়।
সরকারের আধুনিক শ্রেণীবিভাগ: নিম্নে একটি ছকের সাহায্যে লীকক প্রদত্ত আধুনিক সরকারের শ্রেণীবিভাগ দেখানো হল:
অধ্যাপক লীকক আধুনিক সরকারের শ্রেণীবিভাগ করতে গিয়ে নিম্নলিখিত নীতিগুলো অবলম্বন করেছেন।
যথা: ১. সার্বভৌম ক্ষমতার অবস্থান, ২. রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতারোহণ পদ্ধতি, ৩. আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের সম্পর্ক এবং ৪. ক্ষমতার বণ্টননীতি।
নিয়ে এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল:
১. সার্বভৌম ক্ষমতার অবস্থান: রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অবস্থান ও প্রয়োগের উপর ভিত্তি করে অধ্যাপক লীকক আধুনিক সরকারকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন। যথা: গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র। রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা যখন জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে তখন তাকে গণতন্ত্র বলে। আর রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা যখন একজন ব্যক্তির হাতে ন্যূক্ত থাকে তখন তাকে একনায়কতন্ত্র বলে।
২. রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতারোহণ পদ্ধতি: রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতারোহণ পদ্ধতির ভিত্তিতে লীকক গণতান্ত্রিক সরকারকে
নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্র এ দু’ভাগে বিভক্ত করেছেন। রাষ্ট্রপ্রধান যদি উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা লাভ করেন তাহলে একে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র বলে। আবার রাষ্ট্রপ্রধান যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা লাভ করে তাহলে একে প্রজাতন্ত্র বলে।
৩. আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের সম্পর্ক: শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের সম্পর্কের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সরকার আবার মন্ত্রিপরিষদ ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার এ দু’ভাগে বিভক্ত। মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার হল এমন একটি সরকার ব্যবস্থা যেখানে শাসন বিভাগ তাদের কার্যাবলির জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে। আবার রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে সেই শাসনব্যবস্থাকে বুঝায় যেখানে শাসন বিভাগ তাদের কার্যাবলির জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না।
৪. ক্ষমতার কটননীতি: অধ্যাপক লীকক ক্ষমতার বণ্টননীতির আলোকে গণতান্ত্রিক সরকারকে এককেন্দ্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় এ দু’ভাগে বিভক্ত করেছেন। যখন একটি কেন্দ্রের হাতে সার্বিক ক্ষমতা অর্পিত থাকে তখন তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলা হয়। আর যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার হল এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকার ও আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে বণ্টন করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, যুগের পরিবর্তনের সাথে সরকারের পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। আর এ পরিবর্তন ধারার সাথে সংগতি রেখে অধ্যাপক লীকক সরকারের আধুনিক শ্রেণীবিন্যাস তৈরি করেছেন। তবে বর্তমানে এ শ্রেণীবিন্যাস সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে কিছুটা অসামঞ্জস্য হয়ে পড়েছে। ম্যাকাইভারের শ্রেণীবিন্যাস বর্তমানে বিজ্ঞানভিত্তিক হলেও এটি ত্রুটিমুক্ত নয় এবং সময়ের পরিবর্তন ধারায় ভবিষ্যতে নতুন শ্রেণীবিন্যাসের উদ্ভব হতে পারে।