টমাস হবসের সামাজিক চুক্তির সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।

অথবা, টমাস হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ আলোচনা কর।

অথবা, হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ ব্যাখ্যা কর।

অথবা, টমাস হবসের সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের বিভিন্ন দিক আলোচনা কর।

অথবা, হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদটি সমালোচনাসহ ব্যাখ্যা কর।

অথবা, হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধর।

উত্তর: ভূমিকা: ১৫৮৮ সালে ইংল্যান্ডের যাজক পরিবারে জন্মগ্রহণকারী টমাস হবস একজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। Prof. Gettell তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, “The first comprehensive work in political philosophy by an Englishman was that of Thomas Hobbes.” তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ হলো সামাজিক চুক্তি মতবাদ। তিনি ইংল্যান্ডের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সার্বভৌমত্বের ভিত্তি হিসেবে সর্বপ্রথম সামাজিক চুক্তি মতবাদটি প্রদান করেন, যা ছিল ইংল্যান্ডের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সময় উপযোগী পদক্ষেপ।

হবসের সামাজিক চুক্তির সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ: টমাস হক্সের সামাজিক চুক্তি মতবাদটি বিশ্লেষণ করলে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ পরিলক্ষিত হয়। যথা:

১. শান্তি ও নিরাপত্তা: টমাস হবসের সামাজিক চুক্তির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা। হবস বলেছেন, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যই চুক্তি করা হয়েছিল এবং এটা চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

২. সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মতামতের প্রাধান্য: রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা কার হাতে অর্পণ করা হবে, এ ব্যাপারে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মতের প্রাধান্য পেয়েছিল। সংখ্যালঘু অংশ সংখ্যাগরিষ্ঠের মত মেনে নিয়েছিল।

৩. চুক্তি অপরিবর্তনীয়: টমাস হরসের মতে, সামাজিক চুক্তি একবার সম্পাদিত হলে তা আর পরিবর্তন করা যায় না। এ চুক্তির মাধ্যমে শাসক যে সার্বভৌম ক্ষমতা লাভ করেন তা মোটেই পরিবর্তনযোগ্য নয়।

৪. সার্বভৌমত্বের ভিত্তি: সামাজিক চুক্তি হলো সার্বভৌম শক্তির মূলভিত্তি। সামাজিক চুক্তিই সার্বভৌম ক্ষমতা টিকিয়ে রাখে।

৫. অনগণের নিজস্ব উদ্যোগে চুক্তি সম্পাদন: টমাস হবসের সামাজিক চুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো জনগণ নিজেরাই নিজেদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন করেছিল। এর মধ্যে সার্বভৌম শক্তির কোন স্থান ছিল না।

৬. চুক্তি নিয়ন্ত্রণমুক্ত: টমাস হবসের মতে, সামাজিক চুক্তির ফলে সৃষ্ট সার্বভৌম সর্বপ্রকার নিয়ন্ত্রণমুক্ত। সার্বভৌম শক্তির ব্যাপ্তি সর্বব্যাপী। প্রাকৃতিক আইন, ঐশ্বরিক আইন তথা কোন আইন দ্বারা এটা সীমাবদ্ধ নয়।

৭. সামাজিক চুক্তি ভঙ্গ করা যায় না: টমাস হন্সের সামাজিক চুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, এটা ভঙ্গ করা যায় না। হরসের মতে, মানুষ যেহেতু নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে তাদের ক্ষমতা ও অধিকার সার্বভৌম শক্তির হাতে অর্পণ করেছে, সেহেতু তারা এ চুক্তি ভঙ্গ করতে পারবে না।

৮. চুক্তি আইনের ঊর্ধ্বে: টমাস হরসের মতে, সামাজিক চুক্তির ফলে সৃষ্ট সার্বভৌম শক্তির ইচ্ছাই আইন। সার্বভৌম শক্তি সকল আইনের উৎস এবং ব্যাখ্যাদানকারী একমাত্র কর্তৃপক্ষ।

৯. চুক্তি স্থায়ী: সামাজিক চুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এটা স্থায়ী বা নশ্বর। হরসের মতে, সামাজিক চুক্তি স্থায়ী। এ চুক্তির কোন পরিবর্তন বা বিলুপ্ত করা যাবে না।

উপসংহার: উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, হক্সের সামাজিক চুক্তি মতবাদটির কতিপয় সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ইংল্যান্ডের তৎকালীন বিরাজমান অশান্ত পরিবেশকে মোকাবিলা করার জন্য হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদটি বিশেষভাবে উপযোগী ছিল। তাছাড়া হবস এ চুক্তির ফলে সৃষ্ট সার্বভৌম শাসক দ্বারা আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। তাই Gettell মন্তব্য করেছেন, “No writer has taken a more extreme view, than Hobbes of the absolute nature of sovereignty.”