অথবা, জন লকের সামাজিক চুক্তির কয়েকটি সমালোচনা উল্লেখ কর।
অথবা, তুমি কিভাবে জন লকের সামাজিক চুক্তির সমালোচনা করবে সংক্ষেপ লিখ?
অথবা, জন লকের সামাজিক চুক্তি সমালোচনা ঊর্ধ্বে নয়।” ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ভূমিকা: লকের সামাজিক চুক্তিটি সমালোচকদের দৃষ্টি এড়াতে পারে নি। এ চুক্তিটি বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয়েছে। নিম্নে তাঁর সামাজিক চুক্তি মতবাদের সমালোচনাসমূহ আলোচনা করা হলো:
১. আদি চুক্তির ব্যাখ্যা নেই: জন লক একাধিক স্থানে আদি চুক্তির কথা বলেছেন, কিন্তু তা ব্যাখ্যা করেন নি। সেবাইন বলেছেন, “কোন বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট করে না বলাটা লকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।”
২. অসংগতি: লকের চুক্তির মধ্যে কিছু কিছু অসংগতি থেকে গেছে। কোনকিছু ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন নি।
৩. সরকার কিভাবে স্থাপিত হলো তা অস্পষ্ট: সমালোচকদের মতে, সরকার কিভাবে স্থাপিত হলো, তা তার ব্যাখ্যা করা উচিত ছিল। কিন্তু লক তা করেন নি।
৪. অধিকার রক্ষার একটি অস্ত্র: সামাজিক চুক্তিকে লক একটি শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে মনে করেছেন। জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তি সুরক্ষার প্রয়োজনে তিনি সরকারি ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব দিয়ে উদারনীতিবাদ ও বুর্জোয়া ধারণাকে মোটামুটি পাকাপোক্ত করে তোলেন। এ ব্যাপারে চুক্তি হলো প্রধান অস্ত্র।
৫. আইনগত সার্বভৌমত্ব উপেক্ষিত: জন লক বলেছেন, জনগণের সম্পত্তির উপর রাষ্ট্র গঠিত হয়। কিন্তু জনগণ বলতে যদি রাষ্ট্রের আপামর জনসাধারণ বুঝায় তবে সঠিক সম্মতি কখনো সম্ভব নয়। তিনি জনগণের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করেছেন, কিন্তু আইনগত সার্বভৌমত্ব উপেক্ষা করেছেন।
উপসংহার: উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, কতিপয় সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও লকের সামাজিক চুক্তিটি আধুনিক রাজনৈতিক দর্শনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ চুক্তির মাধ্যমে লক জনগণের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে গণতন্ত্র বিকাশের পথ উন্মুক্ত করেছেন। সেবাইন বলেছেন, “It is better way of protecting natural right than the self help to which each man is naturally entittled.”